
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড শিমুলতলা–নওগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। নদীর দুই তীরে লাখ লাখ ঘনফুট বালু মজুত করে রাখায় আশপাশের জনপদ ও গ্রাম্য পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ে। অবাধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই ধারের বসতি ও কৃষিজমি ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে।
বিষয়টি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ও তিনটি নৌকা আটক করা হয় এবং শতাধিক পাইপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ধ্বংস করা হয়। এছাড়া প্রায় সাড়ে সাত লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযান চালানো হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতির আগেই খবর পেয়ে কিছু ড্রেজার সরিয়ে ফেলে অভিযুক্তরা। ফলে সবগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়নি। তবুও অভিযানে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ ও অবৈধ সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রভাবশালী মহলের ভয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগ করতে সাহস পাননি তারা। কিন্তু এসিল্যান্ড পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযান তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পুরো গ্রামই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ত। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে তারা বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন, খনিজ সম্পদ লুটপাট ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা, শাহ আরফিন টিলা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি এক রাতের অভিযানে বিপুল সংখ্যক পাথরবাহী ট্রাক্টর আটক করেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।
প্রশাসনের সূত্র জানায়, অবৈধ খনিজ উত্তোলন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এই কর্মকর্তা। নীতির প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান ও দ্রুত অভিযানের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনপদ রক্ষা পাবে এবং সরকারি রাজস্বও নিশ্চিত হবে।