
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ পাথর লুটপাট বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ সাদা পাথরের একটি অংশ রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ি এলাকার ‘সততা স্টোন ক্রাশার’-এ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে কলাবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ‘সততা স্টোন ক্রাশার’সহ বেশ কয়েকটি পাথর ভাঙার মিলে অভিযান চালিয়ে মোট ৫৩ হাজার ঘনফুট অবৈধ ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ক্রসিং করা ৪৫ হাজার ঘনফুট এবং ক্রসিংবিহীন ৮ হাজার ঘনফুট পাথর ছিল। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় উপজেলা প্রশাসন এসব পাথর জব্দ করে।
তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় জব্দকৃত পাথর স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার চেরাগ আলীর জিম্মায় রাখা হয়। তবে গোপন সূত্রে জানা যায়, জব্দের দিন রাতেই সততা স্টোন ক্রাশার থেকে কিছু পরিমাণ সাদা পাথর অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাথরের মালিক হাবিবুর রহমান স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে জব্দকৃত পাথরের একটি অংশ সরিয়ে নিয়েছেন। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাবিবুর রহমানের বাড়ির পাশের মাঠসহ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু পাথর লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড মেম্বার চেরাগ আলী বলেন, “এসিল্যান্ড মহোদয় আমার জিম্মায় পাথর রেখেছেন ঠিকই, কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা পাথর নিয়ে গেছে তা আমি জানি না। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড স্যারই ভালো বলতে পারবেন।”
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার বলেন, “মঙ্গলবার প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৫৩ হাজার ঘনফুট অবৈধ সাদা পাথর জব্দ করা হয়। তাৎক্ষণিক পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। যদি জব্দকৃত মালামাল চুরি হয় বা হারিয়ে যায়, তাহলে জিম্মাদারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সততা স্টোন ক্রাশারের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, “এখানে শত শত মিল রয়েছে। অনেক মিলেই সাদা পাথর জব্দ করা হয়েছে। সবাই যার যেভাবে পারে পাথর সরিয়ে ফেলেছে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমাকে একা দোষারোপ করছেন কেন? আমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।” পরে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, জব্দকৃত পাথরের একটি অংশ রাতের আঁধারে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, পাথর বা বালু উত্তোলনের ঘটনায় শ্রমিকদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি দেওয়া হলেও বড় ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পার পেয়ে যান। জব্দের পরও যদি পাথরের একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন