
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বিভিন্ন থানার মালখানায় বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা জব্দকৃত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে আধুনিক ও কার্যকর মালখানা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সাইয়েদ মোহাম্মদ তাজরুল হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে থাকবেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনোনীত একজন পুলিশ কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল মনোনীত নিম্ন আদালতের একজন বিচারক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনোনীত একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অ্যাটর্নি জেনারেলের মনোনীত দুইজন কর্মকর্তা, রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং তার মনোনীত একজন প্রতিনিধি, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি।
আদালত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের থানাগুলোর মালখানায় জব্দকৃত যানবাহন ও অন্যান্য আলামত সংরক্ষণে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সুপারিশসহ দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেলকে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৬(ক) ও ৫১৭ ধারা এবং ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারের বিধি ২১০ ও ২১১ যথাযথভাবে অনুসরণ করে জব্দকৃত মালামাল দ্রুত প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে দেশের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গলের ৩৭৯, ৫১৫ ও ৫২৬ নম্বর বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব বিধি অনুসরণ করে থানার মালখানায় থাকা জব্দকৃত মালামালের হালনাগাদ তথ্য নিয়মিতভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে (আইজিপি) পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন থানার মালখানায় জব্দকৃত যানবাহন ও অন্যান্য আলামাল বছরের পর বছর পড়ে থাকায় একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত মালিকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে মালখানা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দ্রুত জব্দকৃত মালামাল নিষ্পত্তির মাধ্যমে থানাগুলোর মালখানায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আলামত ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।