সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ অ্যাডভোকেট-এর নেতৃত্বে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে পুণ্যভূমি সিলেটের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে গণদাবী ফোরামের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ্ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সুধীজন এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপি গ্রহণকালে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ধৈর্য সহকারে নেতৃবৃন্দের কথা শোনেন এবং সিলেটের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবি সমূহ, বাংলাদেশের অন্যতম প্রবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের অধিবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অবিলম্বে “সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে প্রথম শ্রেণীর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে” রূপান্তরের সকল অবকাঠামো নির্মাণ ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হইতে সকল আন্তর্জাতিক রুটে দেশী বিদেশী সকল যাত্রীবাহি ও কার্গো বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা। সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে অভিলম্বে সিলেট-ঢাকা-তামাবিল স্থলবন্দর মহাসড়ককে ছয় লেন বিশিষ্ট জাতীয় মহাসড়কে উন্নয়নের যাবতীয় কার্যাদি সম্পূর্ণ করে যান-বাহন চলাচলের উপযুক্ত করা। রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাথে রেল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সিলেট -আখাউড়া রেল লাইনকে ব্রডগেজ ডাবল লাইনে উন্নিত করে অবিলম্বে উহার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পূর্ণ করে ট্রেন চলাচলের উপযুক্ত করা এবং ঐ রেল লাইনের সকল পুরাতন ব্রীজ ও ষ্টেশন ও জংশন সমূহের আবশ্যকীয় অবকাঠামো নির্মাণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিলেট বিভাগে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি ও যাতায়াতের সুবিধার্থে সিলেট- ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী সকলট্রেনে বগির সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন দুইটি আন্তঃনগর ট্রেইন চালুর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিলেট বিভাগে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি ও যাতায়াতের সুবিধার্থে সিলেট- ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেইনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসন ও বগির সংখ্যা বৃদ্ধি, ট্রেন ও যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রবাসী ও পর্যটকদের জন্য আসন সংরক্ষনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সকল স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, সকল স্থল বন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের “পর্যটন সেন্টার” স্থাপনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী সকল দেশী-বিদেশী যাত্রী ও পর্যটকদের সহযোগী ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের সুবিধার্থে অবিলম্বে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের একটি “দর্শনার্থী বিশ্রামাগার” নির্মাণ ও চালু করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা। ভুমিকম্পের দূর্যোগ প্রবণ এলাকা হিসাবে স্বীকৃত সিলেটে অগ্নি দূর্ঘটনা কিংবা ভূমিকম্পের দুর্যোগকালে বহুতলা ভবন থেকে উদ্ধার কার্য্য পরিচালনার জন্য বিভাগীয় ফায়ার ষ্টেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার সকল থানা ফায়ার ষ্টেশনে সকল আধুনিক সরঞ্জামাদি মজুদ ও সরবরাহের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ভুমিকম্পের দূর্যোগ পূর্ণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ও স্বীকৃত সিলেটের মেট্রোপলিটন এলাকার প্রতিটি থানায় অবিলম্বে একটি করে আধুনিক “ফায়ার ষ্টেশন” স্থাপন, প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বন্যা, ভুমিকম্প ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্ৰবন এলাকা হিসাবে স্বীকৃত সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সুবিধার্থে সিলেট বিভাগের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ফ্লাড সেন্টার নির্মাণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আগাম ঘূর্ণিঝড়, খড়া, বন্যা ও ভূমিকম্পের পুর্বাভাস সংক্রান্ত আগাম তথ্যাদি প্রদানের লক্ষ্যে সিলেটে একটি আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্বলিত ‘প্রাকৃতিক দূর্যোগ পূর্বাভাস কেন্দ্র’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনীতির অগ্রগতির অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশের প্রবাসীদেরকে অনলাইনে অথবা দূতাবাসের মাধ্যমে সহজ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে জাতীয় পরিচয় পত্র ও পাসপোর্ট প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিজ্ঞপ্তি