
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে বিবরণী জমা না দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে মামলাটি করা হয়। দুদক সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শহীদ চৌধুরীর নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ মোট ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
দুদক জানায়, গত ৫ জানুয়ারি পুলিশ, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাজবাড়ি এলাকার বাসায় প্রকাশ্য স্থানে শহীদ চৌধুরীর কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়।
আইন অনুযায়ী, নোটিশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করতে হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও শহীদ চৌধুরী কোনো সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। এমনকি সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, কমিশনের নোটিশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ অভিযোগে বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ চৌধুরীকে তাঁর এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই সময় থেকে শহীদ চৌধুরীও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।