1. hello@ekhonsylhet.com : - : -
  2. info@www.ekhonsylhet.com : এখন সিলেট :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

ছয় বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল টানা প্রায় ছয় বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের জুন মাসে হাসপাতালটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপর আর লাইসেন্স নবায়ন না করেই হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি পরিচালিত এ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত লাইসেন্স নবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১-২২ সালের লাইসেন্স নবায়নের দায়িত্ব হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ সজল দেবকে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনিই লাইসেন্স নবায়নের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে অনলাইনে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে সজল দেব অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া থমকে যায়।

পরে লাইসেন্স নবায়নের লক্ষ্যে পাসওয়ার্ড রিসেট ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সজল দেব ও পিংকু আব্দুর রাহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তাদের বিরুদ্ধে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে দীর্ঘদিনেও লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে, জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত কমিটি গঠন না করে ২০২৪ সালে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই এডহক কমিটির মাধ্যমে দুই বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিভিল সার্জন দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা থাকার পরও দীর্ঘ সময় ধরে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া এবং নিয়মিত কমিটি গঠন না করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, নিয়মিত কমিটি গঠন করে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার দাবিতে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির ৪৫ জন আজীবন সদস্য কিছুদিন আগে সমিতির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ সভা আহ্বান করে নিয়মিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো হাসপাতালের এফডিআর ভেঙে ফেকো মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অর্থ কোন খাতে, কার মাধ্যমে এবং সরকারি নির্ধারিত ফি হিসেবে কত টাকা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন সমিতির সদস্যরা।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, লাইসেন্স নবায়নের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা দরকার। একই সঙ্গে লাইসেন্স নবায়নের প্রকৃত জটিলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে সিলেটের স্বল্প আয়ের চক্ষু রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট