
এখন সিলেট ডেস্ক :: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত– ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।
তিনি বলেন – অনুষ্ঠানে এমন কিছু মানুষ উপস্থিত হয়েছেন যারা সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় বিজয়ী হয়েছেন, দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় যারা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন ইতোমধ্যেই তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।আজ যারা বিজয়ীর পুরস্কার নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল বলেই আপনি বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। সুতরাং খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ।
আলবার্ট আইন্সটাইন যেমন বলেছিলেন.. যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি।
আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি খেলাকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন আমি সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আপনাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবেনা। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম, আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো।
জনগণের কাছে দেয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।
যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধৰ্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান, এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগনের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’ ।
শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’— এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান
তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সকল ধরণের সুবিধা প্রদান করতে সকল ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলাগুলো সরকারি – বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব খেলাগুলোও দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায় এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান শুরু “নতুন কুঁড়ি” ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০শে এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ” নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস”।
দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের প্রতি আহবান, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিতিনিধি হয়ে উঠুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।