
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মক্তবে আরবি পড়তে যাওয়া এক নাবালিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইমামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। উল্টো অভিযোগ করার জেরে পুনরায় মারধরের শিকার হওয়ার দাবিও তাদের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ খুরশেদা বেগম (৫৫) গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার নাবালিকা মেয়ে হাজেরা বেগম (১২) স্থানীয় চটকনার বাজারস্থ মহল্লা মসজিদের মক্তবে নিয়মিত আরবি পড়তে যেতেন। ওই মসজিদের ইমাম জাকির মিয়া (২৮) একদিন তাকে পুকুর থেকে পানি এনে নিজের কক্ষে দিতে বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কক্ষে প্রবেশ করার পর ইমাম জাকির মিয়া নাবালিকার শরীরে অশোভন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও অশালীন কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম চিৎকার করে বের হয়ে বাড়িতে এসে বিষয়টি পরিবারকে জানায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মোঃ ওজি উদ্দীন (৬৬) অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে ইসমাইল (৩০) ও মাসরুক মিয়া (২৭) তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগ দায়েরের দুই মাস পার হলেও এখনো কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং থানায় অভিযোগ করার ‘অপরাধে’ সম্প্রতি ইসমাইল ও তার সহযোগীরা তাদের উপর আবারও হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ওই ঘটনাতেও তারা কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা রেকর্ড করা হবে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের আওতায় আনা হবে।”