
এখন সিলেট ডেস্ক :: সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। হঠাৎ করে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান পূর্ব ও পশ্চিম- এই দুই অংশে বিভক্ত ছিল। দেশভাগের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং তাদের ওপর চালানো হয় শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্য। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর। বৈষম্য দূর করে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে কুক্ষিগত থাকা মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে পারলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এসময় তিনি সকল ধর্ম, বর্ণ, মত ও শ্রেণি- পেশার মানুষের ঐক্যের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শহীদ খান এবং সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা এর আগে সকালে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া সকাল ৯টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।