
শফিকুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ থেকে :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা-এ প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল বুধবার বারকি শ্রমিকদের মধ্যে ২০ টন চাল বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে ট্রাক টার্মিনাল, পর্যটন জোন এবং ক্রাশার শিফটিং পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যচিত্র তুলে ধরেন। প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেন উন্নত প্রশিক্ষণ পায়, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট সেন্টারের ঘাটতি রয়েছে। এসব এলাকায় বড় পরিসরে ফ্ল্যাট সেন্টার নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিন মিয়া-কে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি প্রায় ৬-৭ বিঘা জমির ওপর একটি আধুনিক মানের স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
তবে অনুষ্ঠানে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, কোম্পানীগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের কী উদ্যোগ রয়েছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, “শ্রমজীবী মানুষের জন্য ২০ টন চাল নিয়ে এসেছি এবং তা বিতরণ করা হয়েছে। সকলকে স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের দাবি, পাথর কোয়ারি ও বালু মহাল বৈধভাবে চালু করা হলে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়রা আরও জানান, পাথর ও বালু নির্ভর এই অঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোয়ারি চালুর বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে মন্ত্রী বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত পাথর কোয়ারি চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, এতে করে এই অঞ্চলের অর্থনীতি সচল হবে এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।