
বিশ্বনাথ ভূমি অফিসে নামজারিতে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন অনুমোদনের নামে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ না দেওয়ায় আবেদন ঝুলিয়ে রাখা, নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি এবং দীর্ঘদিন হয়রানির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিশ্বনাথ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদির।
গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডপ্রবাসী এক আত্মীয়ের প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন একটি অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করে উচ্চ আদালতে রায় পান। আদালতের রায়ের পর তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় তদন্ত, তহসিল ও সার্ভেয়ার প্রতিবেদন অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে আবেদনটি দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পরে ভূমি অফিসের নাজির সোনিয়া সায়মিন নামজারির ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নজরে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসিল্যান্ড তাকে কোনো ধরনের অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় নথি তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। নাজির সোনিয়া সায়মিন, সহকারী ইকরামুল ও দৌলতের নাম উল্লেখ করে অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা দাবি করেন। ফলে মোট ৩ লাখ টাকা না দিলে নামজারির আবেদন অনুমোদন করা হবে না বলে জানানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ভূমি অফিসে একটি সংঘবদ্ধ ঘুষের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নামজারির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ভূমি অফিসের নাজির সোনিয়া সায়মিন ও সহকারী দৌলত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নাজির সোনিয়া সায়মিন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। যদিও সরকারি বদলি নীতিমালা অনুযায়ী একই পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকেও অনুরূপ হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।