1. news@ekhonsylhet.com : এখন সিলেট : এখন সিলেট এখন সিলেট
  2. : lf_T1sVb4bjAh5D :
  3. info@www.ekhonsylhet.com : এখন সিলেট :
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রবাসী জাবের চৌধুরীর লোক কর্তৃক নৌকার সুকানিকে মারধর আটকে চাঁদা দাবি বিপাকে ইজারাদার ক্ষতির আসংখ্যা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাটুজকিগঞ্জ সীমান্তবর্তী সুরমা নদীর বালুমহালকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সরকারি ইজারায় পরিচালিত বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এক প্রবাসী  তাহার আত্মীয়. স্বজন দিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে নামানোর চেষ্টা এবং ইজারাদারের বালুবাহী নৌকা আটকে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

‎খোজঁ  নিয়ে স্থানীদের কাছ থেকে জানাযায় জাবের আশরাফ চৌধুরী নামের ঐ প্রবাসী একজন বালু ব্যবসায়ী, তিন বছর পূর্বে বিভিন্নজনকে বালু দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৩/৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লন্ডনে পালিয়েযান। তিনি দেশে থাকাকালীন সুরমা নদীর এই বালু মহাল থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাট করতেন। তিনি একজন চিহ্নিত বালুখেকো, এখন প্রবাসে থেকে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

‎ইজারাদার পক্ষের অভিযোগ, লন্ডন প্রবাসী  জাবের আশরাফ চৌধুরী একজন বালু ব্যবসায়ী, লন্ডন যাওয়ার আগে তিনি দীঘদিন ইজারকৃত বালুমহাল অবৈধভাবে বালু লুটপাট করেছেন। আবার বালু লুটপাট করতে তাহার আত্মীয় স্বজন ও তাহার পোষা স্থানীয় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিক্ষোভে নামাচ্ছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে ইজারাদারের বালুবাহী নৌকা আটক ও লুটপাটের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


‎সম্প্রতি বালুবাহী অর্ধশতাধিক লোড নৌকা আটকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, চাদাঁ না দেওয়ায় নৌকার সুকানিকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে  অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতিও চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‎স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর তীব্র স্রোতে কানাইঘাট উপজেলার কায়স্থগ্রাম এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী রাস্তা ও ফসলি জমি। নয়াগ্রাম, চক, শাহগলি বাজার এবং একটি সরকারি আবাসন এলাকাও ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।


‎অন্যদিকে, ইজারাদার পক্ষের দাবি—নদী ভাঙনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে এককভাবে মিলিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সংশ্লিষ্ট বালুমহাল সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকলে নির্ধারিত শর্ত মেনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কীভাবে  অবৈধ বলা হচ্ছে?

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, জাবের আশরাফ চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বলা হচ্ছে—‘নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, কৃষিজমি বাঁচবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাঁচবে।’ পাশাপাশি বালু উত্তোলনের কারণে কায়স্থগ্রাম, সবজিগ্রাম, শাহগলি বাজার ও সরকারি আবাসন এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও প্রচার করা হচ্ছে।

‎তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলছেন, নদীভাঙন ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো সরকারি ইজারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ, ইজারার শর্ত ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি। ব্যক্তিগত স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



‎ইজারাদার পক্ষের দাবি, সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বালুমহাল ইজারা নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের অনুমোদিত শর্ত অনুসারেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলনের পদ্ধতি, নির্ধারিত সীমানা, পরিবেশগত শর্ত ও ইজারার অন্যান্য বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন।

‎কারণ, ইজারা থাকলেই সব ধরনের বালু উত্তোলন ˆবধ হয়ে যায় না; আবার সরকারি ইজারাভুক্ত বালুমহালকে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগও নেই। বৈধতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের।

‎ইজারাদার পক্ষের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে কোনো বালুবাহী নৌকায় হামলা, লুটপাট কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নৌকা আটকে অর্থ দাবি করার অভিযোগ ওঠায় ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

‎এ অবস্থায় প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে বালুমহালের বৈধতা , ইজারার শর্ত, বালু উত্তোলনের পদ্ধতি এবং নৌকা আটকে অর্থ দাবির অভিযোগ—সবকিছু খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



‎একদিকে নদীভাঙনে মানুষের বসতভিটা, রাস্তা ও কৃষিজমি রক্ষার দাবি, অন্যদিকে সরকারি ইজারার আওতায় বালু উত্তোলন—দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি উঠেছে।

‎অভিযোগগুলোর বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। একইভাবে বালুমহালটির ইজারা, বালু উত্তোলনের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট শর্ত সম্পর্কে প্রশাসনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট