
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে পরিচালনা কমিটি না থাকায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। এ অবস্থায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির কয়েকজন আজীবন সদস্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি নেই। সাধারণ সভার মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে একটি কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ সুযোগে হাসপাতালের ভেতরে একটি চক্র প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সদস্য।
অভিযোগে হাসপাতালের অপথ্যালমিক প্যারামেডিক্স সজল দেব ও কাউন্সিলর কাম প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পিংকু আব্দুর রহমানের নাম এসেছে। তবে তারা দুজনই সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অপথ্যালমিক প্যারামেডিক্স হিসেবে ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সজল দেব জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে যোগ দেন। তার দায়িত্বের মধ্যে রোগীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চোখের প্রাথমিক স্ক্রিনিং করা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এমনকি সিলেট-তামাবিল সড়কের গ্রীণহীলে অবস্থিত ‘শাহপরান (রহ.) চক্ষু সেবা কেন্দ্র’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সজল দেব বলেন, তিনি সহকারী হিসেবে কাজ করছেন এবং কখনো নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেননি। তার ভাষ্য, রোগীর চোখ পরীক্ষা করাই তার কাজ। তিনি বলেন, “আমি ডাক্তার পরিচয় দিইনি এবং কোথাও লিখিওনি। চক্ষু পরীক্ষা করা আমার দায়িত্ব। এটিকে কেউ ডাক্তার হিসেবে দেখলে সেটি ভুল ধারণা।” সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে হাসপাতালের কাউন্সিলর কাম প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পিংকু আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ক্যাম্প ও কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। হাসপাতালের সর্বশেষ এজিএমের সময় মনোনয়ন ফরমের টাকা ও অন্যান্য প্রাপ্ত অর্থের হিসাবও তিনি এখনো দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে পরিচালিত একটি ফার্মেসিতে তার অংশীদারত্ব রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
তবে পিংকু আব্দুর রহমান এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনো ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নন; তিনি কেবল একজন সদস্য ছিলেন। সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে, হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান এবং নিয়মিত কমিটি গঠনের দাবিতে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির ৪৫ জন আজীবন সদস্য গত ১৯ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নিয়মিত কমিটি গঠনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ এবং চক্ষু রোগীদের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দানশীল ব্যক্তিদের অর্থায়নে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি সিলেটবাসীর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত কমিটি না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করে হাসপাতালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই সাধারণ সভার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরে কোনো চক্র বা সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের আশা, দ্রুত নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হবে এবং জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল তার আগের সেবামূলক অবস্থানে ফিরে আসবে।