
সরকারি মদন মোহন কলেজ সিলেটের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা পুরুস্কার বিতরণী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে।
২৬ আগষ্ট বুধবার দুপুরে কলেজের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সরকারি মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোছাঃ তাহমিনা আক্তার।
কলেজের বিএমটিও ডিপ্লোমা -ইন-ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান লে. মোঃ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফরিদ আহমদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও শিক্ষক পর্ষদের সম্পাদক আলী হাসান পারভেজ।
ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রধান মোহান্মদ যুন্নুরাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচকের বক্তব্য রাখেন বাংলা
বিভাগের প্রধান হোসনে আরা কামালী,অর্থনীতি বিভাগের প্রধান আবিদা খানম।
বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্র শিবির কলেজ শাখার সভাপতি আতাউর রহমান। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আহমদ জাহান, হামদ ও নাত পরিবেশনা করেন সুরাইয়া আক্তার ও রিয়াদ আহমদ মাহফুজ।
আলোচনা সভা শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন কলেজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারী মাওলানা ইমদাদুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারি মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোছাঃ তাহমিনা আক্তার বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাঁর চরিত্র, সততা, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, দয়া ও মানবিকতা আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন-“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবীর
আলোচনা শুনলেই হবে না। আমাদের জীবনে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাকে হতে হবে সৎ, নৈতিক, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক। মহানবী (সা.) আমাদের যে নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন, তা শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যদি নবীর আদর্শ অনুসরণ করি, তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে, সহপাঠীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হবে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্যেশ্যে বলেন, তোমরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে বেশি বেশি পড়বে। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, শৃঙ্খলা, জ্ঞানচর্চা, পরোপকার ও মানবিকতার শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করে আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষে লেখা পড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।