
স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতকে সমাজসেবক ফজল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ অপরাধী হারুন মিয়া (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের রাজানগর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি চৌকস আভিযানিক দল রাতভর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। দুর্গম এলাকায় দীর্ঘ সময় ওত পেতে থাকার পর ভোরে সুযোগ বুঝে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাতকের নোয়াকুট গ্রামের সমাজসেবক ফজল মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি হারুন আত্মগোপনে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুন গত দুই দশক ধরে এলাকায় খুন, ডাকাতি ও লুটতরাজের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ২০০১ সালের ৩ জানুয়ারি চুরির একটি ঘটনায় গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়া আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে হারুন ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়। এতে জমির আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই মামলায় হারুন ৬ নম্বর চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিল।
এছাড়া, ২০০৫ সালের একটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ২০১১ সালে সিলেটের আদালত তাকে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হারুন গ্রেপ্তারের খবরে নোয়াকুটসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ময়না মিয়া বলেন, “হারুন শুধু ফজল মিয়ার খুনি নয়, সে পুরো এলাকার জন্য এক অভিশাপ ছিল। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
র্যাব-৯ গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাতক থানায় হস্তান্তর করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই রাহিম জানান, প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।