
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকৃতি কন্যা ও পুণ্যভূমি সিলেট মহানগরীর শামীমাবাদ পিডিবি হাই স্কুলের বিপরীতে অবস্হিত ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র বিগত দিন থেকে পরিকল্পিত ভাবে হামলা ও চাঁদা দাবি সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।
জানা গেছে, গত রমজান মাসের ১লা এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে সিলেটের শামীমাবাদস্হ পাওয়ার ডেবলাপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) ‘র বীপরীত পাশে দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সাথে চলা “বিসমিল্লাহ পাওয়ার কেবল সেন্টার-২” নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একদল আততায়ী দুর্বৃত্তরা দলবেধে দফায় দফায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ দাবি করে। ম্যানেজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারপিট করে আহত করা হয় এবং তাকে প্রাণে মারার হুমকি প্রদান করায় প্রাণভয়ে সে কেশ থেকে সরে দাঁড়ায় এই সময় তারা দোকানের কেশ বাক্স থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সহ আরো বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুর্শদ ‘র মালিকানাধীন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ মুর্শেদ রশেদ তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তার কাছে থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এইদিন পরিকল্পিত ভাবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয় এবং তার মালিকানাধীন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সহ কর্মচারীদের লাঞ্চিত করা হয়।
এছাড়াও হামলাকারীরা তার পারিবারিক বাড়িতেও হামলা চালায় এবং তার বৃদ্ধ পিতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা সম্পত্তি তাদের নামে হস্তান্তর করার জন্য। এমনকি পরিবারের অবস্থান জানার জন্যও হুমকি-ধামকিও প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। হামলা কারীরা নিয়মিত তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করছে এবং তাদের সুস্পষ্ট অবস্হান সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে, সুযোগ পেলেই তাদের পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।