
সিলেটের গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ)’র উদ্যোগে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এবং সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস লাভ করায় কৃতি শিক্ষার্থী পল্লব দেবকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ জিডিএফ কার্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার মৌমির শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় কৃতি শিক্ষার্থী পল্লব দেব এর সম্মানে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, জিডিএফ’র উপদেষ্ঠা ও হাসন রাজা লোকসাহিত্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডাঃ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী।
জিডিএফ’র সহ সভাপতি এডভোকেট মোঃ রাকিব আলী খানের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ বায়জিদ খান এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জিডিএফ’র নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পল্লব দেবের পিতা পল্টু দেব ও মাতা জনতা দেব, অভিভাবক আসিদ আলী, শিক্ষক আফজাল শিকদার, সরূপা বেগম, ব্রেইল শিক্ষক সমীরঞ্জন বিশ্বাস, জিডিএফ’র সমন্বয়কারী সারমিন আক্তার রেবা, হিসাব রক্ষক শাহজাহান, কম্পিউটার অপারেটর তাজকিরা জান্নাত সুইটি।
শিক্ষার্থী ওহনা বেগমের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সুচিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাহমিনা আক্তার মৌমি, ওহনা বেগম, জুই রাণী দাশ, আফসানা আক্তার মুন্নি ও তুফায়েল হুসাইন সুয়েব। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীকে জিডিএফ’র পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী বলেছেন, পল্লব দেব শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীই নন, তিনি মানবিক ও দায়িত্বশীল একজন তরুণ। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার মৌমির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন করে তিনি পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থী পল্লব দেবের এই সাফল্য ও মানবিক উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি পল্লব দেবের মত অন্যান্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহবান জানান।