সিলেট শহরতলীর টুকেরবাজার ইউনিয়নের চাতলীবন্দ এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামী যুবলীগ নেতা নুরুল আমিন খুকুসহ তার সহযোগী চুপ্পুর জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন সিলেট সদর উপজেলার ৬ নং টুকেরবাজার ইউনিয়নের চাতলীবন্দ গ্রামের মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে যুবলীগ নেতা মো: নুরুল আমিন খুকু এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রুহুল আমিন ওরফে চুপ্পু।
চাতলীবন্দ গ্রামে নারী উদ্যোক্তা হালিমা এন্ড হাসিনা এগ্রোফার্মে চাদাবাজি ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের জেল হাজতে পাঠান আদালত। নুরুল আমিন খুকুর আরো ৫ টি নাশকতা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী ছিলো।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবলীগের নেতা নূরুল আমিন খুকসহ তার একটি গ্রুপ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক বিক্রিসহ নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। চলতি বছরের ১৩ মার্চ চাতলীবন্দ গ্রামে অবস্থিত হালিমা এন্ড হাসিনা এগ্রোফার্মে চাঁদা না পেয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। তারা মালিকের উপর হামলা চালিয়ে তাকে আহতও করে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার নং ১৭ (১৫/০৩/২০২৬)। মামলার ইনভেস্টিগেটর অফিসার ছিলেন এয়ারপোর্ট থানার আতিকুর রহমান।
এই মামলায় আসামিরা মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন গ্রহণ করেছিল। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী জামিনের মেয়াদ শেষে তারা রোববার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই হিন্দু সম্প্রদায়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভুমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও ভুমি বিক্রি করতে বাধ্য করার সহ অভিযোগে সিলেট সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও জালালাবাদ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল আমিন খুকুকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ।
৩ মাস জেল খেটে বের হয়ে পুনরায় চাঁদাবজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে সে। সেই সাথে এলাকায় কতিপয় ব্যাক্তিদের নিয়ে গড়ে চুলে মাদকের সাম্রাজ্য যাদের প্রধান গ্রাহক এলাকার ইয়াং জেনারেশন। মাদক সেবন, এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, বৃদ্ধ বা কিশোর কিশোরী কেউই বাদ যায় না তার হিংস্রতার হাত থেকে। চলতি বছরের ঘটনার পুর্বে সে এলাকার সোহরাব মিয়া ও তার পরিবাকে রক্তাক্ত করে মেডিকেলে পাঠায় ও পরে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে অভিযোগ দিলেও মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে।
অভিযোগ রয়েছে, সে একটি বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় বিভিন্ন প্রবাসীদের জমি টার্গেট করে একেরপর এক চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলো । বিশেষ করে হালিমা এন্ড হাসিনা এগ্রোফার্মে মহিলা মালিক ও তার পরিবারকে হামলা, ভাংচুর, লুট ও চাদাবাজির ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাংচুর করে খুকু ও তার বাহিনী।
খুকু ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় অংশ নেয়।
৪ আগস্ট নগরীর কোর্ট পয়েন্টেও সশস্ত্র অবস্থান ছিল তার। তার বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নম্বর-৫০ (৩০/১২/২০২৪), ০১ (১২/০৯/২০২৪), ২৫ (১২/০৯/২০২৪) ও জালালাবাদ থানার মামলা নং ০৬, (২৪/০৮/২০২৪) সহ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানায় আরো মামলা রয়েছে।
খুকুকে কারাগারে পাঠানোর খবরে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এব্যাপারে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী সুহেল জানান, আদালত নূরুল আমিন খুকুসহ দুই আসামীর জামিন নাম মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শুনেছি ওই আসামী এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত ছিল।
এ বিষয়ে জানতে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।