জয়দীপ চক্রবর্তী :: সিলেট সিটি কর্পোরেশন অনিয়মের আতুর ঘরে পরিনত হয়েছে। ফ্যামেলী কার্ড নিয়ে নগরবাসীর মুখে নানা গুঞ্জন। এনিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) প্রতিষ্ঠা হয় ২০০২ সালে। এর পর থেকেই শুরু হওয়া সকল অনিয়ম অফিস আদেশের মতো হয়ে গেছে।ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়মসহ সিটির সকল শাখায় সকল পদবীতে রয়েছে মাসোয়ারা। সিলেট সিটি করপোরেশন এর ৯৫% ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ দূর্তীতে আসক্ত। সিটির নৈশ প্রহরী থেকে শুরু করে প্রতিটি শাখা প্রধানসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে নিয়োজিতরাঘুষ-দূর্নীতিতে যুক্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি ফ্যামেলী কার্ড শুমারী-২০২৬ নিয়োগ প্রকাশিত হয় ২২ জুলাই এবং আবেদনের শেষ তারিখ দেওয়া হয় ২৫ জুলাই। প্রথমে সাক্ষাৎকার ও ব্যাবহারিক পরীক্ষার সময় ২৬ জুলাই সকাল ১০ টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন সন্মেলন কক্ষে (৬ষ্ট তলায়) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও
পরবর্তীতে ২৯ জুলাই তারিখ দিয়ে আবারো তা পরিবর্তন করে নানা নাটকীয়তা অবসান ঘটিয়ে সর্বশেষ ৩ আগষ্ট একই স্হানে নিয়োগ পরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
তারুণ্যের অহংকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার ও দেশ পরিচালনার অগ্রযাত্রায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চালু হওয়া ফ্যামেলী কার্ড শুমারী-২০২৬ এর শুমারীকালীন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট শহরে অবস্থিত সমাজসেবা অফিস কর্তৃপক্ষের অসংগতি ও স্বজনপ্রীতির খবর পাওয়া গেছে। এরইধারাবাহিকতায় সারাদেশের ন্যায় সিলেট বিভাগের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, জাফলং, দক্ষিণ সুরমা ও সিলেট সিটিসহ আশ-পাশের এলাকায় আওয়ামী ডেভিল ছাত্রলীগ ফ্যাসিষ্টদের পরিবার ও নিয়োগ কর্তাদের নিজ নিজ অফিস ও আত্বীয় স্বজনদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আন্দোলনও করা হয়েছে। তাতেও কোন কাজে আসছেনা।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে সিলেট সিটিতে চাকরিরত কর্মকর্তা কর্মচারীদেরদের আত্বীয়-স্বজন ও স্হানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মনোনিতরাই ফ্যামেলী কার্ড শুমারীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এ কাজে সহসাই যোগ্যরা স্হান না পেলেও অযোগ্যরা ঠিকই স্হান করে নিয়েছে। এ নিয়ে পরিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে ৩ তারিখ দুপুর ৩ টায় সিলেট সিটির অন্তর্গত১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও অত্র ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: কবির আহমেদ তার দলীয় সাঙ্গ-পাঙ্গ সহ নিয়োগস্হল পরিদর্শন শেষে নিজ ওয়ার্ডের নিজ দলীয় লোকদের পরীক্ষা শেষে ওয়াটসএয়াপে নাম ও রোল নম্বর দেওয়ার জন্য বলে যান তিনি, তদবীর করবেন নিয়োগের জন্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান- বিকেল ৪ টায় ১৩,১৪,১৫ নং ওয়ার্ডের নিয়োগ বাছাই পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে অত্র ওয়ার্ডের আরেক বিএনপি নেতা এসে নিয়োগস্হল পরিদর্শন করেন এবং তিনি অংশগ্রহণ কারীদের ফাষ্টফুড খাওয়ান। সর্বত্র অযোগ্যরা স্হান পাওয়ায় ফ্যামেলী কার্ড শুমারী কার্যক্রম আদৌ কী সফল হবে,নাকী সরকারের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে?এনিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।