কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক যুবক। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের নাম মইনুল ইসলাম রিফাত। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিজেশ্বর গ্রামের হাতেম মিয়ার ছেলে। তাঁর বাবা হাতেম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় এএসআই পদে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিফাত তাঁর তিন বন্ধু ইয়ামিন, সাব্বির ও আরিয়ানকে নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে আসেন। পরে শনিবার সকালে তাঁরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছান।
সেখানে অন্যান্য পর্যটকের মতোই চার বন্ধুই সাদা পাথর এলাকায় পানিতে নেমে গোসল করছিলেন। একপর্যায়ে সাঁতার না জানা রিফাতের পা পিছলে যায়। এ সময় তিনি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অচেতন হয়ে পানির স্রোতে ভেসে যান।
বন্ধুরা ও আশপাশের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা পানিতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেন। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় এক ব্যক্তি পানির স্রোত থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে পানিতে নেমে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাঁতার না জানা পর্যটকদের পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে আসেন। পানির স্রোত, পাথর ও গভীরতার কারণে কিছু এলাকায় ঝুঁকি থাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।