নিজস্ব প্রতিবেদক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। একই সরলরেখায় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর অবস্থানের ফলে সৃষ্টি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিলের পর প্রায় ২৮ মাসের ব্যবধানে আবারও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখতে যাচ্ছে পৃথিবীবাসী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সংঘটিত হতে যাওয়া এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালের একটি ছোট অংশ থেকে। ইউরোপের অন্যান্য দেশ ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এটি আংশিক সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে।
প্রায় ২৭ বছর পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। ফলে এবারের গ্রহণ ঘিরে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
মহাজাগতিক এ দৃশ্য দেখতে ইতোমধ্যে গ্রহণের পূর্ণতার পথের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হয়েছেন দর্শনার্থীরা। তবে কয়েকটি অঞ্চলে মেঘ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি গ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী গ্রহণটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে। পূর্ণগ্রাস পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে পূর্ণগ্রাস পর্যায় দুই মিনিটেরও কম স্থায়ী হবে, তবে গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথে সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে।
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। আর চাঁদ যখন সূর্যের পুরো চাকতিকে আড়াল করে ফেলে, তখন সৃষ্টি হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল—করোনা—অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হয়, যা বিজ্ঞানীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করে।
তবে সূর্যগ্রহণ দেখার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণগ্রাসের কয়েক মুহূর্ত ছাড়া সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো নিরাপদ নয়। আংশিক গ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই অনুমোদিত সৌর-দর্শন চশমা বা নিরাপদ সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।