বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত জাফলং ডাউকি নদীর তীরবর্তী কান্দুবস্তি বেরিবাঁধ অঞ্চল থেকে অবৈধ সেভ মেশিন বসিয়ে পাথর ও বালু লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ ধ্বংস করে পরিচালিত এই অবৈধ কারবার থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সম্প্রতি বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাফলংয়ের সংবেদনশীল ইসিএভুক্ত নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে পরিবেশ ধ্বংসকারী সেভ মেশিন ব্যবহার করে অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কান্দুবস্তি গ্রামের আফসার আহমেদ প্রতি সেভ মেশিন থেকে ২০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েক দিন আগে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে সেভ মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর তোলার সময় আফসার আহমেদ তার নির্ধারিত চাঁদা দাবি করেন। বালু-পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত কর্মচারীরা ওই চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আফসার আহমেদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরবর্তীতে আফসার আহমেদ তার স্থানীয় ক্লাবের অনুসারী ও সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।
ইসিএভুক্ত এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দিন-দুপুরে অবৈধ সেভ মেশিন চালিয়ে বালু-পাথর লুটপাট এবং সেই সাথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় জাফলংয়ের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী পরিবেশ রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।