স্টাফ রিপোর্টার, কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট): সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামে তাসলিমা আক্তার চৌধুরী (৩৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাসলিমা আক্তার চৌধুরী একই গ্রামের বাসিন্দা খাইরুল মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ঘরের ভেতরে তাসলিমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বড় ভাই হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে তার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুজল কর্মকার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।