হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫ নম্বর করাব ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এই লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, করাব ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগকারী বেদেনা আক্তার জানান, গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ANC), ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়। টাকা ছাড়া সেখানে কোনো কাজ হয় না।
সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ বিতরণেও সুচিত্রা রানীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
বেদেনা আক্তার আরও দাবি করেন, এর আগেও সুচিত্রা রানীকে একাধিকবার শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হলেও তাঁর আচরণ ও কার্যকলাপে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
আরেক ভুক্তভোগী হাফসা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিভিন্ন সেবা নিতে গেলে টাকা ছাড়া কাজ হয় না বলে আমরা মনে করি। এতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।" অবিলম্বে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন কুলসুমা আক্তারসহ একাধিক সেবাগ্রহীতা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লাখাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. গৌতম চন্দ্র রায় অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লিখিত অভিযোগটি আমাদের হাতে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জেলা পর্যায়ের বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম সেলিম ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।