ডেস্ক রিপোর্ট :: কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের চিকিৎসাধীন ২০০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র রোগীর মাঝে মোট ১ কোটি টাকার চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা-১ শাখার ‘ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি’-এর আওতায় এ এককালীন সহায়তা প্রদান করা হয়।
গতকাল শনিবার (২৮ জুন ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রত্যেক রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২০০ জনের হাতে ১ কোটি টাকার অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রফিক বলেন, দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগ একটি পরিবারের জন্য অভিশাপের মতো। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এমন সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এই চেক বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার প্রতিটি রোগীকে এককালীন বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করছে, যা তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উল্লিখিত ছয়টি রোগে আক্রান্ত যে কেউ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় অথবা নিজ নিজ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মেডিকেল সার্টিফিকেটের নামের মধ্যে অবশ্যই মিল থাকতে হবে। নামের অসঙ্গতির কারণে অনেক আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হয়। তাই সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে।
তিনি কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটে সেবামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সিলেট অঞ্চলে স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের কিডনী ডায়ালাইসিস ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা যেভাবে কমমূল্যে এবং আন্তরিক পরিবেশে ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (অব.) বীর প্রতীক সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সরকারি অনুদানের অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবার ই-গভর্নেন্স পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অল্প সময়ে ২০০ রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজে সংযুক্ত করা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা সফলভাবে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই অনুদানের ফলে একজন কিডনী রোগী অন্তত তিন মাস বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহণ করতে পারবেন, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি। ভবিষ্যতে সরকারি এ সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হলে আরও বেশি রোগী উপকৃত হবেন।
কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, সিলেটের ট্রেজারার জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, অনেক অসচ্ছল কিডনী রোগী ডায়ালাইসিসের ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। তাদের জন্য হাসপাতালটি বর্তমানে কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেট, ব্র্যাক স্যার ফজলে হাসান আবেদ ফাউন্ডেশন, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, এফআইভিডিবি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দেশ-বিদেশের দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ৫১% রোগীকে বিনামূল্যে ডায়লাইসিস সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সকল কিডনী রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা দিতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের প্রশাসন পরিচালক সৈয়দ সাদেক হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (কল্যাণ ও সেবা) ফরিদা নাসরিন, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোঃ মা'আয রেজা চৌধুরী এবং মানবসম্পদ ও প্রশাসন ব্যবস্থাপক মোঃ মহিবুর রহমান রাসেল।
অনুদানপ্রাপ্ত রোগীরা সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, সংকটময় সময়ে এই আর্থিক সহায়তা চিকিৎসা ব্যয় বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সফলভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।