
ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা-এ বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হঠাৎ করেই নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র এলাকা। আকস্মিক ঢলে সেখানে থাকা ছোট ছোট দোকান, ফেয়ার লকার, চেঞ্জিং রুমসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে যায়। অনেক দোকানের মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, হঠাৎ করে পানি প্রবেশ করায় তারা কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। এতে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, দোকানের আসবাবপত্র, পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ পানিতে ভেসে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ২–৩ দিনের মধ্যে এলাকায় আরও বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।