সুনির্মল সেন :: সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের আরেক নাম শামস উদ্দিন কালা ওরফে ‘শ্যামকালা’। চোরাচালান, লাইনম্যান বাণিজ্য ও সীমান্তজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে তিনি পুরো এলাকাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র একাধিক কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শ্যামকালা এখন সীমান্ত চোরাচালান সিন্ডিকেটের গডফাদারে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে সংঘটিত উত্তেজনাকর গোলাগুলির ঘটনার নেপথ্যেও উঠে এসেছে এই শ্যামকালার নাম। স্থানীয় সূত্রমতে, গত সোমবার বিকেলে শ্যামকালার নিয়ন্ত্রিত একটি চক্র ভারত থেকে পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেল বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। এসময় বিএসএফ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বাধা পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্যামকালার সশস্ত্র লাঠিয়াল বাহিনী বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ গুলি ছুড়লে পরবর্তীতে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এতে পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত শ্যামকালা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সীমান্ত চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শ্যামকালা স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী আর্থিক নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, সিলেট জেলা ডিবির সাবেক ওসি রেফায়েত ও ইকবালকে কোটিপতি বানানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের। একইভাবে গোয়াইনঘাট থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলামের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়েও এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবেক কর্মকর্তাদের বিদায়ের পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান জেলা ডিবির দুই ওসি আনোয়ার ও আশরাফ এবং গোয়াইনঘাট থানার বর্তমান ওসির বিরুদ্ধেও শ্যামকালাকে ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ফলে সীমান্তে তার দৌরাত্ম্য দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের ছত্রছায়া থাকায় স্থানীয় প্রশাসনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এতে সীমান্তজুড়ে চোরাচালান, অস্ত্রবাজি ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যেও সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়।
সোনারহাট সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শ্যামকালা ও তার মদদদাতা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সীমান্ত অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।