“প্রয়োজনে রক্ত দেব, তবুও ভিটাবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেব না” — এলাকাবাসী
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের দলাই নদীতে ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নূরে মদিনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১১টায় উপজেলার ঢালার পার মোস্তফা নগর এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম। আয়োজকরা জানান, সরকারের বৈধ ইজারার প্রতি তাদের কোনো আপত্তি নেই; তবে ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিবছর নদীভাঙন বেড়ে যাচ্ছে এবং এলাকার ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল উৎপেতে আছে, দলাই নদীর নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করার জন্য । বালু খেকোরা যদি একবার সুযোগ পায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে ধ্বংস করে দিবে সবকিছু। এর ফলে নদীর তীরবর্তী বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের বৈধ ইজারাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু কোনোভাবেই ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন মেনে নেওয়া হবে না। যারা গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল ও রাস্তাঘাট ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত কারো ভিটাবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেব না। প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষা করব। আর কোনো মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীভাঙনের শিকার হতে দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে যদি কোনো পক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালায়, তবে এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম বলেন, অতীতেও অবৈধভাবে লিজ বহির্ভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ঢালার পার ও দক্ষিণ ঢালার পার মোস্তফা নগর সংযোগ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “যারা নিজেদের অনেক শক্তিশালী মনে করেন, তারা যেন মনে রাখেন—জনগণের চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সব ধরনের প্রভাব-প্রতিপত্তি টিকবে না। আমার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও সরকারি স্থাপনা ধসিয়ে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, এবার যদি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থেকে বালু উত্তোলন করা হয়, তাহলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি বহু খেটে খাওয়া মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়, ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে যেন কোনোভাবেই এক মুঠো বালুও উত্তোলন করতে না দেওয়া হয় এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।