সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন রোধে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক অভিযানে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) গভীর রাতে উপজেলার ভোলাগঞ্জ বাংকার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছিল—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসনের এ তৎপরতা শুরু হয়।
অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে আন্ডার অ্যারেস্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেওয়া হলেও বাকি ৫ জনের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) এর ৪(খ), (ছ) ও (জ) ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— হীরা লাল দাস (৩০), রবিউল মিয়া (২৫), পবীন্দ্র বিশ্বাস (২৫), মো. আলী হুসেন (১৮) ও আবু বক্কর (১৮)।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার পৃথক অভিযানে এনজিআর ০৯/২৬ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নুরুল আমিন (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিন মিয়া বলেন, “অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় আমরা দিন-রাত কাজ করছি এবং এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, “অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন, মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে। যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ অভিযানে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতার কারণে এলাকায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় কমছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসন ও পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও রাজস্ব সুরক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে দিন-রাত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তারা একটি শক্ত বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন যে—অবৈধ কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই।
তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তারা বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক হতদরিদ্র মানুষ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শাস্তি ভোগের পরও তারা পুনরায় একই কাজে ফিরে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।