শফিকুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ :: সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলার সীমান্তে ভা-রতের খাসিয়ার ছররা গু-লিতে মো. সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নি-হত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দয়ারবাজার সীমান্ত এলাকার ভারতের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সালেহ আহমেদ জয়ধর কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজারের নাজীরগাও (কারবালারটুক) মৃত বিরাম আলীর ছেলে।
বিজিবি ও সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন ৩ জন বাংলাদেশি যুবক মাদকের চালান আনার জন্য আনুমানিক ১ কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশী নাগরিকগণ খাসিয়াদের সুপারি বাগানের একাংশে অবস্থান করলে ভারতীয় খাসিয়া সুপারি চোর সন্দেহে ব-ন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড ছররা গু-লি ছুড়ে। এসময় বাংলাদেশী নাগরিক মো. সালেহ আহমেদ জয়ধর গু-লিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গীয় অপর দুইজন চোরাকারবারী তাকে মৃত অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক। তিনি জানান, অবৈধ অনু-প্রবেশকারী ৩ জনই ইতোপূর্বে চোরাচালানী মালামাল পরিবহনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে লাশ সুরতহাল করার জন্য।
উল্লেখ্য যে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের শাষন আমল থেকে কোম্পানীগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জ এলাকায় পাথর কোয়ারী - বালু মহাল বন্ধ থাকায় এলাকার সকল মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সিলেট -৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনী ইসতেহারে পাথর কোয়ারী ও বালু মহাল খুলে দেওয়া সহ শ্রমিক বান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রমের ঘোষণা দিলেও তা এখনো বাস্ত বায়ন হয়নি। তারই ধারাবহিকতায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পাথর কোয়ারী ও বালু মহাল ছাড়া বিকল্প আর কোন কর্মসংস্হান না থাকায় পেটের দ্বায়ে প্রতিনিয়ত এলাকার যুব সমাজ সহ সকল বয়সের জনসাধারণ নারী-পুরুষ অনৈতিক সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। একই সাথে শারফিন ও তার আশপাশের এলাকার প্রায় সকল মানুষ মামলায় জর্জড়িত। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীতে মানুষ নামা মাত্রই অভিযান এবং এই অভিযানে ধরা পড়লে ৬ মাসের জেল, এই ভয়ে কেউই নির্ভিগ্নে কাজে যেতে পারছেননা। জনবান্ধব বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এলাকাবাসীর দাবি একাটাই কোম্পানীগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী ও বালু মহাল খুলে দিন নয়তো আগামী দিনে আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।