বীরগঞ্জ, দিনাজপুর প্রতিনিধি :: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বীরগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের মূল প্রবেশদ্বার হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই গেটটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রায় ৫০০ থেকে ৮০০ গজ অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

শুধু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া নয়, টিফিনের সময় বাড়িতে যাওয়া-আসাসহ দিনে চার থেকে পাঁচবার এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এতে তাদের শারীরিক কষ্ট বাড়ছে, পাশাপাশি অনেকেই বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে—যা শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত বিকল্প পথটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই পথে দুই থেকে তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট রয়েছে এবং পূর্ব পাশের রাস্তা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে ভরা থাকায় তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
এছাড়া অতিরিক্ত পথ চলার কারণে সড়ক পারাপারে ঝুঁকি, যানবাহনের চাপ এবং সময় অপচয়—সব মিলিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়া অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের মূল গেটটি পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসবে।