বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বর্ষা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দখলের পায়তারা ও সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বর্ষা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৫০) লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার চাচাত ভাই মোজাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার ১৭ শতাংশ ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—লোকমান হোসেন, তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম, আনসারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম, আক্তার হোসেন এবং তার ছেলে ইমন মিয়াসহ আরও কয়েকজন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে তাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেয়। এতে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায় এবং ঘেরাবেড়া ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে সুলতানা বেগম (৫৫), লায়লা বেগম (৩৩), হুসনে আরা বেগম (৩০) ও শিমু আক্তা (২২) আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় শিমু আক্তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তার ডান চোখে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শিমুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী সুলতানা বেগম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সুযোগ পেলেই তারা দখলের চেষ্টা করত।”
এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।