দিরাই প্রতিনিধি :: দিরাই থানার আনোয়ারপুর গ্রামে গত সোমবার (২০২১ সালের ১৫ই মার্চ) সকাল ১০ টায় তারা মিয়ার মেয়ে বিউটি বেগম (১৭) আত্মহত্যার খবরে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যাকারী বিউটি বেগমের সাথে প্রতিবেশি পাবেল আহমেদ (২৫) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। দীর্ঘদিন উভয়ের মধ্যে দৈহিক মিলনের পর বিউটি বেগম অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। তার শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতার জন্য তার পিতা তাকে নিয়ে ডাক্তার দেখালে ডাক্তারী পরীক্ষায় বিউটি বেগম (১৭)’র ১০ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বার রিপোর্ট পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানার পর বিউটি বেগম এবং তার বাবা-মা পাবেল আহমদের বাড়িতে গিয়ে তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়ে অবহিত করে অবিলম্বে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু পাবেল আহমেদ তার প্রস্তাব নাকচ করে তারই চাচাতো ভাই মিজানুর রহমানের উপর দায় চাপিয়ে সে অভিযোগের দায় এড়াতে চাইল। মিজানুর রহমান উক্ত বিষয়টি শুনে তার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি ছমির মিয়ার বাড়িতে একটি সালিশি সভা বসায়। এই সভায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে পরিকল্পিত ঝগড়া হওয়ায় পাবেল আহমদের বাবা ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুত্বর জখম হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করায় ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়। প্রতিবেশির কুৎসায় তার জীবনযাপন অতীষ্ট হয়ে উঠে। তার চরিত্রের উপর কলঙ্ক ও অপবাদের গ্লানি সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয় এবং ২০২১ সালের ১৪ মার্চ রাত ১১টায় তার শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে বিষপান করে বিষের জ্বালায় বিউটি বেগম চিৎকার দিলে তার বাবা-মা চিৎকার শুনে দরজায় নক করেন তখন সে দরজা খুলে দিলে তাকে বমি করতে দেখেন এবং তার মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বের হতে দেখা যায়। তাৎক্ষনিক বিউটি বেগমকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ২০২১ সালের ১৫ মার্চ বিউটি বেগমের বাবা তারা মিয়া বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মৃত্যুর সটিক কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।